বাংলাদেশে শিশুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।
সম্প্রতি দেশের জেলা শহর কুষ্টিয়ার একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি অপরাধীদের কঠোর শাস্তি এবং শিশুদের সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমজেএফ জানায়, মাদ্রাসার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর এ ধরনের নৃশংসতা প্রমাণ করে যে, সেখানে নজরদারি ও জবাবদিহির চরম অভাব রয়েছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার ওই শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হলেও এমজেএফ মনে করে, কেবল গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন- ‘ভয় এবং সামাজিক নীরবতার সুযোগ নিয়ে অনেক অপরাধী প্রতিষ্ঠানের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। সাধারণত গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত এসব ঘটনা সামনে আসে না। শিশুরা কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।’

বিবৃতিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যের বরাত দিয়ে শিশুদের প্রতি সহিংসতার একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়- ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) মোট ৭১টি শিশু সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী ৩৮ জন কন্যাশিশু ও ২ জন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া ১৪ জন কন্যাশিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
২০২৫ সালের রেকর্ড ঘেঁটে গত বছরে শিশুদের প্রতি সহিংসতার মোট ১,০২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল।

এমজেএফ মনে করে; ঘর, স্কুল, মাদ্রাসা বা জনসমাগমস্থল- কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। এই সংকট উত্তরণে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি জরুরি দাবি জানিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে-

১। যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনঃ দ্রুততম সময়ে জাতীয় সংসদে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে পূর্ণাঙ্গ আইন পাস করতে হবে।

২। হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নঃ আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন নিশ্চিত করতে হবে।

৩। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচারঃ প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে।

৪। সচেতনতা বৃদ্ধিঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক সহ সমাজের সকল স্তরে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়েরই মৌলিক দায়িত্ব। বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, এই দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারকে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরণের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

এমজেএফ-এর লক্ষ্য হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিশুরা কোনো ভয় ছাড়াই স্বাধীনতা ও পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে বেড়ে উঠতে পারবে।