দক্ষিণ এশিয়ার জনবহুল দেশ বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ ‘যাকাত’-কে একটি সুশৃঙ্খল ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় এনে দেশের চরম দারিদ্র্য দূর করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং রমজান মাসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ যাকাত প্রদান করে থাকেন। তবে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার অভাবে এই বিশাল অর্থ এতদিন টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনে আশানুরূপ প্রভাব ফেলতে পারেনি।
এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করতে হবে। তার মতে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করা সম্ভব।
বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল যাকাত বোর্ড পুনর্গঠন করে দারিদ্র্য বিমোচনে দেশে অর্থনৈতিক মডেলের একটা নতুন সম্ভাবনা তৈরী করা। দারিদ্র্য বিমোচনের এই লড়াইয়ে ধর্মীয় জ্ঞান এবং আধুনিক অর্থনীতির সমন্বয় ঘটাতে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নেতৃত্বে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক ও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়কে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রস্তাব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের সুপারিশমালা পেশ করবেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যাকাত কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি সম্পদের সুষম বণ্টনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশে যাকাতের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা তৈরির সফল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে এই মডেল কার্যকর হলে তা হবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
এ ব্যাপারে দেশের বরেণ্য ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক এবং সদ্য সাবেক অর্ন্তবর্তী সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন- ‘যাকাত যদি সঠিকভাবে সংগ্রহ ও বণ্টন করা হয়, তবে সমাজে কেউ আর সাহায্যের জন্য হাত পাতবে না- এটিই ইসলামের মূল দর্শন। ’
শনিবার (৭ মার্চ) আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দারিদ্র বিমোচনে যাকাতকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, সোমবারের বৈঠক তারই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ যদি এই মডেলে সফল হয়, তবে তা বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য একটি অনুকরণীয় ‘পোভার্টি এলিভিয়েশন মডেল’ হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে বলে দেশের ইসলামি চিন্তাবিদ এবং অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

