বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অভূতপূর্ব শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানাল দেশের মানুষ। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবিঃ বিএনপির মিডিয়া সেলের সৌজন্যে
এর আগে মানিক মিয়া এভিনিউতে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে মানিক মিয়া এভিনিউ, জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। জানাজায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান এবং দেশের সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী সহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিএনপি’র পক্ষ থেকে দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিন বাহিনীর প্রধানরাও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জানাযা ও দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্য, স্বজন এবং বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া পার্টির পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান।
পাকিস্তান, ভারত, ভুটান, শ্রীলংকা, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতরা খালেদা জিয়ার জানাযায় অংশ নেন। তাঁর প্রতি ৩৩টি দেশের প্রতিনিধির শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এক বিস্তৃত শোকের ছায়া নেমে আসে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালানন্দ শর্মা এবং ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পো ডি এন ডুঙ্গেল পৃথকভাবে তারেক রহমানের হাতে নিজ নিজ দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের পাঠানো শোকবার্তা তুলে দেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত ৩০ আগস্ট শাহাদাত বরণ করেন। তার মৃত্যুতে বুধবার সরকারি ছুটিসহ তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে দেশবাসী।

