মাইনুল হাসান সোহেল (ঢাকা ব্যুরো)

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন। খেলাধুলাকে কেবল শখের গণ্ডি থেকে বের করে একটি টেকসই এবং সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো গ্রাম বাংলার তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান অ্যাথলেটদের তুলে আনা।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক ক্ষেত্রেই খেলাধুলাকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিতে তরুণরা দ্বিধাবোধ করে। বিশেষ করে আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক চাপের কারণে অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিভা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। এই অচলায়তন ভাঙতে সরকারের নতুন স্লোগান- ‘ক্রীড়াই পেশা, পরিবার পাবে ভরসা।’

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক এই উদ্যোগের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা অভিভাবকদের মধ্যে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই যে, তাদের সন্তানরা খেলাধুলাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিলেও পরিবারকে আর্থিক সংকটে পড়তে হবে না।’

প্রকল্পের মূল দিকসমূহ-
টার্গেট গ্রুপঃ ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থী।
বাজেটঃ সংশোধিত বাজেটে ৪০.১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
খেলার ধরনঃ ফুটবল, ক্রিকেট এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা।
ব্যয়ভারঃ প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম, যাতায়াত এবং প্রচারণা ছাড়াও এই অর্থ সরাসরি পুরস্কার ও প্রণোদনা হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের অধীনে এই কর্মসূচিটি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, যাতে শহরের সুযোগ-সুবিধার বাইরে থাকা গ্রামাঞ্চলের কিশোর-কিশোরীরাও জাতীয় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পায়।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো তরুণ অ্যাথলেটদের ঝরে পড়া। কিশোর বয়সে অসাধারণ প্রতিভা দেখালেও বিশের কোঠায় পা রাখতেই অনেকে পারিবারিক দায়িত্ব ও পুষ্টির অভাব মেটাতে না পেরে খেলা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এই সংকট নিরসনে ৫০০ জন প্রতিষ্ঠিত অ্যাথলেটকে বার্ষিক ১ লাখ টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বছর ৩০০ জনকে সহায়তা দিয়ে যাত্রা শুরু হচ্ছে, তবে আগামী বাজেটে এর জন্য একটি স্থায়ী অর্থায়ন কাঠামো তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সরকারের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিকে দেশের ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বোদ্ধারা ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করছেন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু মনে করেন- এই কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে খেলাধুলার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হবে। এর মাধ্যমে খেলাধুলার বিভিন্ন শাখায় অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে এবং দক্ষিণ এশিয় ক্রীড়ায় বাংলাদেশ সম্মানজনক ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান সরকারের এই অগ্রাধিকারকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি এর দীর্ঘমেয়াদী সফলতার জন্য সুশৃঙ্খল বাজেটিং এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রেসেনজা, ঢাকা ব্যুরোর এই প্রতিনিধিকে দেয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ফান্ডের উৎস নিশ্চিত করা এবং সেটি স্বচ্ছতার সাথে ব্যবহার করাই হবে এই প্রকল্পের মূল চ্যালেঞ্জ।

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। যদি এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি নতুন ক্রীড়া শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে এবং হাজার হাজার তরুণ তাদের স্বপ্ন পূরণের একটি কাঠামোগত পথ খুঁজে পাবে।

তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে উত্তরণের এই দীর্ঘ যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজপথের রাজনীতি ছাপিয়ে এই উদ্যোগ যেন সবুজ মাঠের সন্তানদের সত্যিকারের নায়ক করে তোলে।

 

মাইনুল হাসান সোহেলঃ বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক ইনকিলাব এবং নির্বাহী সম্পাদক (অনারারি) প্রেসেঞ্জা- ঢাকা ব্যুরো।