খুলনা, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খুলনার বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে ‘এক্সপ্লোর-২’ জাহাজে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস)-এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধ বন্ধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। বিশেষ করে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার বন্ধে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের মাধ্যমে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে যাতে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে বিষয়ে ট্যুর অপারেটরদেরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশবান্ধব পর্যটনের ওপর গুরুত্ব
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত রেখেই এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। সুন্দরবনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ কতসংখ্যক পর্যটক প্রবেশ করতে পারবেন, তা নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ যাতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে সুন্দরবনে সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক, ওয়ানটাইম প্লেট ও গ্লাসের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। পর্যটকবাহী নৌযানগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং ইঞ্জিননির্ভরতা কমিয়ে আরও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থায় পর্যটন পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া সুন্দরবনে পর্যটকদের অবস্থানের সময় যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। একই এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান না করে ট্যুরের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
পর্যটন বন্ধের সময়ে বিকল্প গন্তব্যের পরামর্শ
সুন্দরবনে পর্যটন বন্ধ থাকার সময়ে খুলনা ও বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র ট্যুর প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন শেখ ফরিদুল ইসলাম।
মতবিনিময় সভায় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সদস্যরা সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তারা প্রতিবছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখার সময়সীমা পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
টোয়াসের সাধারণ সম্পাদক শাহ জামান পপুলসহ সংগঠনের নেতারা বলেন, দীর্ঘ সময় সুন্দরবনে পর্যটন বন্ধ থাকায় ট্যুর অপারেটর, পর্যটকবাহী জাহাজের মালিক, গাইড, মাঝি এবং এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আয় ও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
তারা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুনর্বিবেচনা, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে পরিকল্পিত ও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের নেতৃবৃন্দ, ট্যুর অপারেটর সংগঠনের অন্যান্য সদস্য, সুধীজন এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

