২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে আলাদা আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি। মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও বাস্তুতন্ত্রকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে সব কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
সোমবার ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সদর দপ্তরে শুরু হওয়া ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা পরিবেশ, প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যের পারস্পরিক সংযোগ এবং সম্মিলিত সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল। তাই এসব বিষয়কে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে কার্যকর ও টেকসই সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নভূমির গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। একই ভূদৃশ্যে মানুষ, বাস্তুতন্ত্র এবং কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে একটি খাতে চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
ওয়ান হেলথ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের উদ্যোগ
মন্ত্রী জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ওয়ান হেলথকে শুধু একটি ধারণা হিসেবে নয়, বরং বাস্তব শাসনব্যবস্থার একটি নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাঠামো গড়ে তুলছে।
এই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমন্বয় গড়ে তুলতে পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে অন্যতম প্রধান অংশীজন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এখন যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে এই অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ তথ্যকেন্দ্র বিভিন্ন দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কপ৩১-এর আগে রোম সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ বললেন মন্ত্রী
আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ৩১-এর আগে রোমের এই সম্মেলনকে সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন পরিবেশমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রোমের আলোচনার অভিজ্ঞতা কপ৩১-এর আলোচনায় তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কাজ করবে।
বাংলাদেশের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার প্রস্তুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সম্মেলনে হওয়া আলোচনা যেন বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগে রূপ নেয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এফএওর মহাপরিচালক ডংইউ কু (Dongyu QU), সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন (Guy Parmelin), তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মউইগুলু নচেম্বা (Dr Mwigulu Nchemba) এবং সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী দুরো ম্যাকুট (Duro Macut) সহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এছাড়া মোজাম্বিকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উসেনে হিলারিও (Ussene Hilario), কেপ ভার্দের কৃষিমন্ত্রী এভেলিন নায়ের মন্টেইরো রামোস (Eveline Nair Monteiro Ramos), ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী জেনেভার্ড অ্যানি (Geneverd Annie) এবং আয়ারল্যান্ডের কৃষিমন্ত্রী টি. ডি. মার্টিন হেইডন (T.D. Martin Heydon) সহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

